স্ত্রী-সন্তান দিয়ে জমি চাষ
স্বপ্ন নিউজ ডেস্ক
জানুয়ারি ৮, ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ছোট কাশর গ্রামের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক। এক মেয়ে ও তিন ছেলে সন্তানের জনক।

বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। মেঝো ছেলে গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকুরী করে। বর্তমানে ছোট ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে তাদের সংসার। ভিটেবাড়ি ছাড়া চাষের যে টুকু জমি আছে তা দিয়ে চলে আবু বকর সিদ্দিকের টানাটানির সংসার।

আরও পড়ুন : নগ্ন ফটোশুট করে অভিনেত্রী বললেন, ‘আমরা তো এভাবেই জন্ম নিয়েছি’

গত ৭ই জানুয়ারি হবিরবাড়ি ইউনিয়নে অন্য একটি কাজে গিয়ে কয়েকজন সংবাদকর্মীর চোখে পড়ে এক জমিতে মানুষের মই টানার দৃশ্য। গাড়ি থামিয়ে কথা হয় এই কৃষক দম্পতির সাথে। এ সময় কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বোরো চাষের জন্য ‘৩৫ শতাংশ জমিন ট্রাক্টর দিয়ে চাষের কাজ করেছি। কিন্তু জমিটি হমান (সমান) করে লাগানির (রোপনের) উপযোগী করতে হইবো। কিন্তু টাহার (টাকা) অভাবে কয়দিন ধরে ক্ষেতে মই দিতে পারতেছি না। অনেক খানেই টেহা পয়সা ধার চাইয়া ব্যর্থ হইছি। পরে কোনো উপায় না পাইয়া বউ পুলারে লইয়া মই দিতাছি।’

আবু বকরের বড় ছেলেও কৃষিকাজ করেন। কিন্তু নিজের পরিবারের ভরণপোষণের পর বাবাকে সাহায্য করার মতো আর্থিক অবস্থা নেই তার। মেজো ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। এক মেয়ে বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে। ছোট ছেলে মাহাদী হাসান সুমন দশম শ্রেণির ছাত্র।

আরও পড়ুন : কাজলের যে ছবি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল

আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, বড় ছেলে বিয়া কইরা আলগা (আলাদা) হইয়া গেছে। ছোড (ছোট) ছেলেরে লইয়া থাকি। ছেলেডা ইস্কুলে পড়ে। হাতে কোনো টেহা পয়সা (টাকা) নেই। কারো কাছে টাকা ধার চেয়ে পাননি। আবার পেলেও সময়মতো শোধ করতে না পারলে অনেক কথা শুনতে হয়। এখন কোনো উপায় না দেইখা স্বামীর কাজে সহযোগিতা করতাছি।’ এই কাজ করায় আমার কোনো লজ্জা বা কষ্ট নেই।

ছোট ছেলে সুমন জানান, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ। আর বাবারো অনেক বয়স হয়েছে। দুইজনে কাজ করলে ক্ষেত সমান হবে না। তাই মায়ের সঙ্গে নেমে পড়েছেন জমি সমান করতে।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারগিস আক্তার জানান, হালের বলদের অভাবে স্ত্রী-সন্তানকে দিয়ে মই দেয়াটা খুবই পীড়াদায়ক। আমি দ্রুতই খবর নিব এই পরিবারটির। সরকারি প্রনোদনাসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে ওই পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

সম্পাদক : মোঃ ইয়াসিন টিপু

নাহার প্লাজা , ঢাকা-১২১৬

+৮৮ ০১৮১৩১৯৮৮৮২ , +৮৮ ০১৬১৩১৯৮৮৮২

shwapnonews@gmail.com

পরিচালনা সম্পাদক : মিহিরমিজি

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সপ্ন নিউজ
Powered By U6HOST