বর্তমান সরকারের দুই বছর পূর্তি আজ, অব্যাহত উন্নয়নের অগ্রযাত্রা : শেখ হাসিনার
স্বপ্ন নিউজ ডেস্ক
জানুয়ারি ৬, ২০২১, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছর পূর্তি হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। একদিকে করোনা মোকাবিলা অন্যদিকে উন্নয়নে গতি অব্যাহত রাখা- দুটোই সমানতালে করেছে সরকার। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ফের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা এক যুগ পূর্তি ছিল গতকাল বুধবার। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে আওয়ামী লীগ। এর আগে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সে বছরের ১২ জুনের সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে রাজনৈতিক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার যাত্রা শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার।
প্রায় দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর ওই সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার টানা দ্বিতীয়বারের মতো যাত্রা শুরু করে। এছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের দুই বছরও পূর্ণ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার।
এদিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা এক যুগ পূর্তিতে বাংলাদেশের জনগণকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ‘দিন বদলের সনদ রূপকল্প ২০২১’ উপস্থাপন করেন। জনগণ নিরঙ্কুশভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করে। একইভাবে দেশের জনগণ ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় গণরায় দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখে। বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে গত ১২ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির সকল সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব সভায় উন্নয়নের রোল মডেল।
অব্যাহত উন্নয়নের অগ্রযাত্রা: একদিকে করোনা মোকাবিলা অন্যদিকে উন্নয়নে গতি অব্যাহত রাখা- দুটোই সমানতালে করেছে সরকার। মাঝেমধ্যেই দ্রব্যমূল্যের কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্বাস্থ্য খাতে সফলতার পাশাপাশি কিছু দুর্নীতি বেরিয়ে এলেও সরকার তা দমন করেছে কঠোরভাবে। দলীয় জনপ্রতিনিধি যারা সরকারি অনুদানে অনিয়ম করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ও সরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ সময়ে নির্বাচনী রাজনীতিকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক সমালোচনায় পড়ে সরকার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেন।
সরকারের দ্বিতীয় বছরের শুরুটা ছিল বিশ্বজয়ের। গত বছরের ৯ ফেব্র“য়ারি আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে। তার পরপরই ৮ মার্চ বাংলাদেশে শনাক্ত হয় প্রথম করোনাভাইরাস। করোনা মোকাবেলায় সরকার যুগোপযোগী সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে খাবার পৌঁছানোর পাশাপাশি ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। গার্মেন্টসে প্রণোদনা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ-চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ। করোনা ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন ও ভ্যাকসিন প্রাপ্তির চুক্তির মাধ্যমে সরকার মহামারি প্রতিরোধের ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে।
করোনা মহামারির মধ্যেই বিজয়ের মাসে অসম্ভবকে সম্ভব করার দৃষ্টান্তস্বরূপ পদ্মা জয় হয়। ১০ ডিসেম্বর ৪১তম স্প্যানটি বসলে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হয়। ২৯ ডিসেম্বর নির্মাণাধীন দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বন্দরে ভিড়ে জাহাজ ‘ভেনাস ট্রায়াম্প’। করোনার মধ্যেও সরকারের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অব্যাহত ছিল। নদী তীরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, রাজধানীর অবৈধ দোকান ও খাল উদ্ধারের তৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর। শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে বছরের শুরুতে পৌঁছেছে নতুন বই। ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য সরকারের। গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে বাড়ি করে দেওয়া শুরু হয়েছে সরকারের দ্বিতীয় বছরে।
বিশ্বব্যাপী করোনার আঘাত শুরু হওয়ায় সামগ্রিক কাজকর্মে কিছুটা ছেদ পড়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ ছিল মার্চ-মে সময়ে। তারপরও করোনার মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। দেশজুড়ে ১০০ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান। পদ্মা সেতুতে রেললিঙ্ক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২৮ শতাংশ। একইভাবে চলছে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর কাজ। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের প্রথম অংশ দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সম্পন্ন হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কাজেও গতি ফিরেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মার্চে খুলে দেওয়া হয়েছে ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়েটির মূল অংশ। এ প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশ তেঘরিয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজেও গতি ফিরেছে। যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উম্নাচন করতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪ কিলোমিটারের বঙ্গবন্ধু টানেল। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের কাজেও গতি ফিরেছে।বিশ্বব্যাপী করোনার আঘাত শুরু হওয়ায় সামগ্রিক কাজকর্মে কিছুটা ছেদ পড়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজও বন্ধ ছিল মার্চ-মে সময়ে। তারপরও করোনার মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি হচ্ছে। দেশজুড়ে ১০০ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান। পদ্মা সেতুতে রেললিঙ্ক প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২৮ শতাংশ। একইভাবে চলছে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর কাজ। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের প্রথম অংশ দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সম্পন্ন হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কাজেও গতি ফিরেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মার্চে খুলে দেওয়া হয়েছে ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়েটির মূল অংশ। এ প্রকল্পের দ্বিতীয় অংশ তেঘরিয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজেও গতি ফিরেছে। যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত
উম্নাচন করতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৪ কিলোমিটারের বঙ্গবন্ধু টানেল। অন্যদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের কাজেও গতি ফিরেছে।
করোনা মোকাবেলায় শীর্ষ ২০-এ বাংলাদেশ: করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছে এমন শীর্ষ ২০ দেশের তালিকা সংবলিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ব্ল“মবার্গ। মরণব্যাধি করোনা নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের জন্য সহনশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে আর্থ-সামাজিক উন্নতিসহ বসবাস উপযোগী নিরাপদ শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। করোনার টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
করোনার শুরুতে প্রথম কিস্তিতে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি, দ্বিতীয় কিস্তিতে আরো ৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজেই দেশের মানুষকে করোনা থেকে সুরক্ষা, চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের জীবিকার চাকা সচল এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রয়োজনে এই বরাদ্দ আরো বাড়ানো হবে মর্মেও ঘোষণা করেছেন তিনি। মূলত মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের কারণেই ঘুরে দাঁড়ায় দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
ডিজিটাল বাংলাদেশ: করোনার সময়ে দেশে ডিজিটাল সেবা বেড়েছে। বলা হচ্ছে, ডিজিটাল না হলে বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কোভিড-১৯-এর বিপর্যয় দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল যোগাযোগের সম্ভাবনাগুলোকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মতো বাংলাদেশও লকডাউনের সময় ঘরে বসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্র“তি হওয়ায় সরকার কোভিড-১৯-এর মাধ্যমে সৃষ্ট ‘নিউ নরমাল’ জীবনযাত্রা মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ শক্তভাবেই গ্রহণ করে। মহামারি চলাকালীন বিভিন্ন পরিষেবাকে অনলাইনে রূপান্তর করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনার আলোকে সরকার বিভিন্ন নীতি ও কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।
ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে বসবাসরত তাদের আত্নীয়-স্বজন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলতে পারছে যা দেশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব এনেছে। এমনকি মহামারি চলাকালীন আইসিটি বিকাশের কারণে অনলাইন বিপণন শিল্প বেশ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। লকডাউনের সময়ে অনলাইন ব্যবসায় লেনদেনের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে। মানুষ আজকাল অসংখ্য অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা করে। এটি কেবল সাধারণের জীবনযাপনই সহজ করেনি, বরং ট্যাক্স এবং ভ্যাট আকারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করার সুযোগ তৈরি করেছে সরকারের জন্য।
করোনায় রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড: মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্স পাঠিয়ে রেকর্ড গড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৯০ কোটি ৪৪ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯২ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা)। ৩০ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। ১ জুলাই থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে দুই টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন প্রবাসীরা। এর ফলে করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ছে রেমিট্যান্স। একই সঙ্গে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মন্দা কাটাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ লাখ টাকা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া দুই শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। আগে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ: দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রায় ১ দশমিক ২২ লাখ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। মোট ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে প্যাকেজ-১-এ ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেওয়া, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা। প্যাকেজ-২ ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান, ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা।
প্যাকেজ-৩-এ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধা বাড়ানো, ব্লক টু ব্লক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। প্যাকেজ-৪-এ প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধার। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার ৭ শতাংশ। প্যাকেজ-৫-এ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি আপদকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ফুরফুরে মেজাজে পুঁজিবাজার: লম্বা ধকল কাটিয়ে ভালো অবস্থানে ফিরেছে পুঁজিবাজার। মঙ্গলবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। ২০১০ সালের ধসের পর বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ায়নি। মাঝেমধ্যে এক-দুই মাসের জন্য বাজারে কিছুটা ইতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেলেও পরে আর সেটা স্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আরো একটি বড় ধসের মুখে পড়ে পুঁজিবাজার। বেশিরভাগ শেয়ারের দর তলানিতে নেমে যায়। মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লকডাউনের মধ্যে দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকে লেনদেন। ৩১ মে থেকে দেশের পুঁজিবাজারে ফের লেনদেন শুরু হয়।
সুশাসনে কঠোরতা: মো. সাহেদ, ডা. সাবরিনা, মালেক ও পিকে হালদারের মতো আর্থিক জালিয়াতকারীদের কঠোরহস্তে দমন করেছে সরকার। করোনার ত্রাণ আত্নসাৎ করা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। ধর্ষণ খুব মারাত্নক ব্যাধি আকারে দেখা দেয়। দাবির মুখে সরকার ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করে অধ্যাদেশ জারি করে।
জিডিপিতে শ্রেষ্ঠত্ব: জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করছে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভারত থেকে তথা এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে ওপরে আছে বাংলাদেশ, যা বাঙালি জাতির জন্য সুখের ও গর্বের। তা ছাড়া বর্তমানে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ অনুসারে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ।
স্বাস্থ্য: করোনাভাইরাস সামলাতে গিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুর্বলতা ধরা পড়লেও সাফল্য কিন্তু মোটেই কম নয়, যার স্বীকৃতি পাওয়া গেছে আন্তর্জাতিকভাবে। এ থেকে স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়ন, সচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে সরকারের আন্তরিক প্রয়াস ও প্রতিশ্র“তি দেখা গেছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য পিপিই-মাস্কসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করে সরকার; টেস্টিং কিট আমদানি করে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ল্যাব স্থাপনসহ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়; করোনা মোকাবিলার ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের জন্য ৫-১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং এর ৫ গুণ জীবন বীমা ঘোষণা; ২ হাজার ডাক্তার, ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স এবং ৫ হাজার স্বাস্থ্য টেকনোলজিস্ট নিয়োগ; স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শের জন্য তিনটি হটলাইন চালুর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে সরকার।
মাতারবাড়ীতে প্রথম জাহাজ: গত বছরের ১০ মার্চ একনেকে পাশ হয় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প। ২৯ ডিসেম্বর এ বন্দরে প্রথম জাহাজ আসে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ সহায়তা ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিচ্ছে ২ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। আরেক সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের জন্য প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাবনাবাদ চ্যানেল দেড় বছরে খনন হবে ও এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ক্রমেই বিদেশি জাহাজের আগমন বাড়ছে মোংলা বন্দরে।
রোহিঙ্গা স্থানান্তর: মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর স্বজাতি নির্মূলের তা­বলীলায় বাংলাদেশ সীমান্তে ২০১৭ সালের আগস্টে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। মানবিকতার সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়ে কক্সবাজার ও উখিয়াতে বাস্তুচ্যুত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার। যা আন্তর্জাতিক মহলে কুড়ায় অভূতপূর্ব প্রশংসা। দফায় দফায় আলোচনা, প্রত্যাবাসন চুক্তির পরও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা কূটকৌশলে তিন বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি বাংলাদেশ। অন্যদিকে খাবার, আবাসন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থানসহ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। সব বাধা পেরিয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গারা যেতে রাজি হওয়ায় পুরো বিষয়টিকে সরকারের অনেক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বন্যা ও আম্ফান মোকাবেলা: দেশে বন্যা ও নদীভাঙন খুব খারাপ পরিস্থিতির দিকে মোড় নিয়েছিল। ৩২টি জেলায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যা মোকাবিলায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে সরকার। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানও সরকার সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

সম্পাদক : মোঃ ইয়াসিন টিপু

নাহার প্লাজা , ঢাকা-১২১৬

+৮৮ ০১৮১৩১৯৮৮৮২ , +৮৮ ০১৬১৩১৯৮৮৮২

shwapnonews@gmail.com

পরিচালনা সম্পাদক : মিহিরমিজি

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সপ্ন নিউজ
Powered By U6HOST