দেশজুড়ে চলছে করোনার টিকাদান, প্রথমে নেন জনপ্রতিনিধিরা
স্বপ্ন নিউজ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২১, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে ব্যাপক উৎসাহের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে টিকাদান কর্মসূচি। দেশব্যাপী একযোগে কার্যক্রম শুরুর দিনেই গতকাল রবিবার করোনার টিকা নিলেন সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। এছাড়াও প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ আদালতের একাধিক বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও টিকা নিয়েছেন। গতকাল সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী এক হাজার পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সারা দেশে টিকাদান উদ্বোধনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ সময় বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কার্যক্রমে জড়িত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এর পরপরই বিভিন্ন জেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেখানে টিকা নেন তিনি। এছাড়াও মন্ত্রীদের মধ্যে টিকা নিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও টিকা নিয়েছেন। সচিবদের মধ্যে টিকা নিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
এছাড়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি জিন্নাতারা হক ও বিচারপতি এনায়েতুর রহিম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রে টিকা নেন।
এদিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চলছে করোনার টিকাদান কর্মসূচি। এখানে টিকা নিয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এরপর এখানে টিকা নেন সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াসহ বেশ কয়েকজন।

এ ছাড়াও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালামসহ আরো কয়েকজন টিকা নেন। এদিকে দুপুর অবধি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাও টিকা নিয়েছেন।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে একযোগে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদেরই প্রথমে ভ্যাকসিন নিতে দেখা গেছে। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য নিয়ে বিভিন্ন জেলার টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
রাজশাহী: সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে প্রথম করোনার টিকা গ্রহণ করেছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। রবিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কেন্দ্রে তিনি করোনার টিকা নেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এই ভ্যাকসিন আমার কাছে নিরাপদ মনে হয়েছে। কোনও ধরনের ব্যথা অনুভব করিনি। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কোনোরকম অস্বাভাবিকও মনে হয়নি। তাই ভয় না পেয়ে সবার প্রতি আমি আহ্বান জানাবো ভ্যাকসিন গ্রহণ করুন। করোনাকে পরাজিত করে সুস্থ থাকুন।’

এমপি বাদশার টিকা নেওয়ার পর তার সহধর্মিনী অধ্যাপিকা তসলিমা খাতুন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা, জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল, রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার করোনার টিকা গ্রহণ করেন। এরপর রামেক হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা নিতে শুরু করেন।
রাজশাহী শহরে মোট তিনটি কেন্দ্রে রবিবার টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। অন্য দুটি কেন্দ্র হলো—বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল। দুপুর ১২টায় পুলিশ হাসপাতালে টিকা প্রয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
সিভিল সার্জন ডা. মো. কাইয়ুম তালুকদার জানান, রাজশাহীতে উপজেলা পর্যায়ে ১০টি কেন্দ্রে টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ উপজেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর বাইরে গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশেষায়িত হাসপাতালে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। নিজে ভ্যাকসিন নিয়ে চট্টগ্রামে করোনাভ্যাকসিন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। রবিবার সকাল পৌনে ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারতলায় ভ্যাকসিন বুথে তিনি টিকা নেন।
এরপর একে একে ভ্যাকসিন নেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, বিদ্যুৎ বড়ুয়া এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

রংপুর: রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮টি বুথে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা প্রথমে টিকা নিয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর টিকা নেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজু, অর্থপেডিকস বিভাগের অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক হামিদুর রহমান। এর পরেই চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা টিকা নেন।
মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা টিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত গুজবে কান দিয়ে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নুরন্নবী লাইজু টিকা গ্রহণ করে বলেন, ‘টিকা দেওয়ার সময় কোনও ব্যথা অনুভূত হয়নি এবং দেওয়ার পরও কোনও সমস্যা হয়নি। আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা অনেক দেশের আগে টিকা এনে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, এ জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সবাইকে করোনার টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার পর মানিকগঞ্জের ৯টি কেন্দ্রে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল পৌনে ১১টার দিকে নার্সিং কলেজ কেন্দ্রে জেলা প্রশাসক এস. এম ফেরদৌস, পুলিশি সুপার রিফাত রহমান শামীম, সিভিল সার্জন আনোয়ারারুল আমিন আখন্দ একযোগে এই তিন জন টিকা গ্রহণ করেন। পরে অন্যদের টিকা দেওয়া হয়।
করোনার টিকা নেওয়ার পর জেলা প্রশাসক এস. এম ফেরদৌস বলেন, যেসব বিজ্ঞানী এ ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা প্রতিরোধে সকলকে এ ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, ভ্যাকসিন গ্রহণের পর আমার কোনও খারাপ লাগেনি। সুস্থ থাকতে হলে সবার এ ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে ৮টি, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৮টি, পুলিশ হাসপাতালে ১ এবং উপজেলাগুলোতে ৩টি করে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ২টি টিম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রির্জাভ থাকবে। প্রতিটি টিমে ২ জন করে টিকাদান কর্মী ও ৪ জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন।
মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, জেলায় ৪৮ হাজার ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৮২৭ জন অ্যাপসের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
গোপালগঞ্জ: ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরপর শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাকির হোসেন, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক এবং সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার এস এম সাকিবুর রহমান ভ্যাকসিন নেন। পরে অন্যদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। সিনিয়র স্টাফ নার্স রমা রানী ভক্ত বিশিষ্টজনদের ভ্যাকসিন পুশ করেন।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুজাত মিয়া বলেন, ‘আজ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ১৫০ জন, পুলিশ হাসপাতালে ৪০ জন, টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে ৩০ জন, কাশিয়ানী হাসপাতালে ১শ জন, মুকসুদপুর হাসপাতালে ১২৭ জন এবং কোটালীপাড়া হাসপাতালে ৩০ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।’ গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা প্রথম টিকা নিয়েছেন, তারা সবাই সুস্থ আছেন।’
রবিবার গোপালগঞ্জ পুলিশ হাসপাতাল, টুঙ্গিপাড়া মুকসুদপুর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ ৬টি টিকাকেন্দ্র থেকে সম্মুখ সারির করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীদের ৪৮০টি টিকা দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার সাকিবুর রহমান জানান, জেলায় টিকা গ্রহণে আগ্রহী আড়াই হাজার ব্যক্তি অন লাইনে আবেদন করেছেন।
যশোর: মহামারি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশব্যাপী ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরেও এর উদ্বোধন হয়েছে। যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ রবিবার নিজে ভ্যাকসিন গ্রহণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। বেলা পৌনে ১২টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তিনি এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এরপর একই স্থানে যশোরের জেলা প্রশাসক, ডাক্তার, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকরা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
নোয়াখালী: নোয়াখালীতে প্রথম ভ্যাকসিন নিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারাও ভ্যাকসিন নিন, কোনও গুজবে কান দেবেন না। যতদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে দেশ, নিরাপদে থাকবে বাংলাদেশ।’ এদিকে জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় প্রথম টিকা নিয়েছেন বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই আবদুল কাদের মির্জা।

নারায়ণগঞ্জ: জেলার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ টিকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে দুটি সরকারি হাসপাতালসহ চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান শুরু করেন। রবিবার সকাল ১০টায় শহরের মন্ডলপাড়ায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে প্রথম টিকা নেন তিনি।
এরপর একে একে টিকা গ্রহণ করেন চিকিৎসক, মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকসহ পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষ। তবে টিকা গ্রহণ করে জেলায় কোথাও কোনো সমস্যা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
উদ্বোধনকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী আবুল আমিন, নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার সালেহ উদ্দিন আহমেদ, জেলা করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁ: রবিবার সকাল ১০টায় নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে জেলার ডিসি হারুন অর রশিদকে টিকা দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যে টিকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ডিসি হারুন বলেন, ‘ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। অনেকেই ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন। কিন্তু এটাও বুঝতে হবে, এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে একটি ভালো উদ্দেশ্যেই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে যদি কেউ ভ্যাকসিন না নেয়, তবে সেটা ভুল হবে। অনেক ওষুধেও কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আবার অনেকের শরীরে অনেক ধরনের ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’

নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালের পরিচালক সিভিল সার্জন এবিএম হানিফ বলেন, জেলায় রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত ৬ হাজার মানুষ টিকা গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মুনজের-ই মোর্শেদ জানান, জেলায় ৮৪ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। এই টিকা ৪২ হাজার মানুষকে ২ ডোজ করে দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকা দেওয়ার কেন্দ্র থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে করোনাভাইরাসের প্রথম টিকাটি নিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে আয়োজিত টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে টিকা নেন তিনি।

গুজব প্রসঙ্গে রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, গুজবে কেউ কান দেবেন না। আমি নিজেই করোনার টিকা নিলাম, বুঝতেই পারলাম না। টিকা নেওয়ার পর আমি সুস্থ আছি।
সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, শনিবার বিকাল পর্যন্ত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন এ জেলার ৩ হাজার ২০৫ জন করেছেন। এরমধ্যে সদরে ১ হাজার ৫৬৩ জন, বালিয়াডাঙ্গীতে ৭১০ জন, রাণীশংকৈলে ৩২৬ জন, পীরগঞ্জে ৩৮৫ জন এবং হরিপুরে ২২১ জন বলে জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলায় ৪৮ হাজার করোনাভাইরাসের টিকা এসেছে। জেলার সদর ও উপজেলা পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কেন্দ্র ও বুথ স্থাপন করা হয়েছে। টিকা প্রদানের জন্য সদর হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ে ৭৭টি টিম গঠন করা হয়েছে।

বাগেরহাট: বাগেরহাটে প্রথম ধাপের করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসক ফয়জুল হক ফিতা কেটে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে জেলা প্রশাসক নির্ধারিত বুথে গিয়ে প্রথম টিকা গ্রহণ করেন। এরপর বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবিরসহ স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা টিকা নেন।
টিকা গ্রহণের পর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ফয়জুল হক জানান, সারা দেশের একযোগে গণ টিকা প্রদানে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চদশ দেশ। তিনি বলেন, ‘টিকা গ্রহণের পর আমার অন্য রকম মনে হচ্ছে না। আমি স্বাভাবিক আছি।’
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির জানান, বাগেরহাট জেলায় প্রথম দিনে এক হাজার জনকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে সদর হাসপাতালে দেড়শ, পুলিশ হাসপাতালে ৫০ এবং ৮টি উপজেলার প্রতিটিতে একশজন করে মোট আটশ জনকে টিকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিনেই আমি প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’
নেত্রকোনা: রবিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরুকে প্রথম টিকা দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন সেলিম মিয়া জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় প্রথম দফায় ৩২ হাজার জনকে টিকা দিতে ২২টি বুথে ১৩২ জন কর্মী ছাড়াও ১০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

দিনাজপুর: দিনাজপুরে প্রথমে টিকা নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। রবিবার বেলা সোয়া ১১টায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বুথে তিনি টিকা গ্রহণ করেন। এরপর চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং মুক্তিযোদ্ধারা পর্যায়ক্রমে টিকা গ্রহণ করেন।
জেলা সিভিল সার্জন বলেন, প্রথম দফায় দিনাজপুর জেলায় ৪৫ হাজার মানুষকে এ টিকা প্রদান করা হবে। রবিবার সকাল পর্যন্ত জেলার ১৩ উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে তিনি জানান।
বগুড়া: বগুড়ায় সকাল ১১টায় মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে টিকা দান শুরু হয়। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক প্রথম টিকা নিয়ে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সে সময় টিকা নিতে আসা উৎসাহী মানুষদের দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ঢাকার সিএমএইচে সেনা-নৌ-বিমানবাহিনীর টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন: সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দেশব্যাপী কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আওতায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী প্রধান কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান প্রথমে টিকা গ্রহণ করেন। পরে সেনাবাহিনীর ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা টিকা গ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী দিনে প্রায় ২শ জন সেনাসদস্যকে টিকা প্রয়োগ করা হয়। টিকা গ্রহণকারী সকল সেনাসদস্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘সুরক্ষা’ surokkha.gov.bd) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। এছাড়াও, দেশের অন্য সকল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন নিবন্ধনধারীদের মধ্য হতে প্রায় ৫শ জনকে টিকা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে ঊধ্বর্তন সেনা কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন পদবির সামরিক ও অসামরিক সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

নৌবাহিনী: নৌবাহিনীর সকল সদস্যকে টিকাদান কার্যক্রম উপলক্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনীর সকল হাসপাতালে গতকাল সকাল থেকে এ টিকাদান শুরু হয়। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল ঢাকাস্থ বানৌজা হাজী মহসীনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ টিকা প্রদানের মাধ্যমে করোনা মুক্ত বাংলাদেশ হবে মুজিববর্ষের শ্রেষ্ঠ উপহার বলে প্রধান অতিথি আশা প্রকাশ করেন।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর সামরিক ও অসামরিক সদস্যদের সকাল ৯টা হতে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল সামরিক ও অসামরিক নৌ সদস্যদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়।

বিমানবাহিনী: বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বাশারের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রন, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান বাহিনীর সদস্যদের মাঝে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এই টিকাদান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রধান প্রথমে টিকা গ্রহণ করেন। পরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও অন্য সদস্যদের করোনাভাইরাসের টিকা প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩০ জন সদস্যকে টিকা প্রয়োগ করা হয়। টিকা গ্রহণকারী বিমানবাহিনীর সকল সদস্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম surokkha.gov.bd) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সকল ঘাঁটিতে একযোগে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উক্ত টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ অন্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ঢাকা সিএমএইচে টিকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫০ জন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা টিকা গ্রহণ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

সম্পাদক : মোঃ ইয়াসিন টিপু

নাহার প্লাজা , ঢাকা-১২১৬

+৮৮ ০১৮১৩১৯৮৮৮২ , +৮৮ ০১৬১৩১৯৮৮৮২

shwapnonews@gmail.com

পরিচালনা সম্পাদক : মিহিরমিজি

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সপ্ন নিউজ
Powered By U6HOST