ওয়াজ মাহফিলের নামে এ সব হচ্ছে কি?
মাওলানা এম এ করিম ইবনে মছব্বির
জানুয়ারি ২৯, ২০২১, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

পৃথিবী সৃষ্টি থেকে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন, মানবজাতিকে হিদায়তের জন্য যুগে যুগে অসংখ্য, অগণিত নবী এবং রাছুল প্রেরণ করেছেন। বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বিনা হাদিয়া তে তায়েফের মাঠে ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে জুলুমের শিকার ও হয়েছিলেন। রাসূল (সাঃ) এর দাওয়াত ছিলো যে, সারা বিশ্ব মানব লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মদুর রাছুলুল্লাহ এর ছায়ার নীচে চলে আসুক। যাতে করে মানবজাতি ইহকাল এবং পরকালে শান্তি এবং কল্যাণকামী হয়ে যায়। রাসূল হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) পায়ে হেঁটে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কলিমা তথা ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন।

নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজেই কাপড়ের ব্যবসা করতেন। মুসলিম জাতির আদি পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) মিস্ত্রীর কাজ করতেন অর্থাৎ গৃহ নির্মাণের কাজ করতেন। নবী হযরত ইদরীছ (আঃ) টেইলারিং অর্থাৎ কাপড় সেলাই করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। আর বর্তমান যুগে আমাদের বাংলাদেশের কিছু কিছু হুজুররা ইসলামের কথা বলার জন্য তাদের সময় নেই, তাদের কে হেলিকপ্টারে যেতে হবে। তাদের কে এডভান্সড মাণি পে করে তাদের ডাইরী মেইনটেন্স করতে হয়। হায়রে ধর্ম বাবসায়ী অন্ধ কিছু কিছু কাঠ মৌলভীরা ধিক্কার জানাই তোমাদের মুর্খ বিবেক কে। ইলমে ফাছাহাত এবং ইলমে বালাগতের ইলিম না জেনে তারা পোষ্টার এবং তাদের ভিজিটিং কার্ডে তারা হয়ে যায় মুফাসসিরে কোরআন। মাসয়ালা, মাসাইলের জ্ঞান না থেকে তারা হয়ে যায়, ঘরে ঘরে মুফতী। সাধারণ মানুষ কে তারা কোরআন এবং হাদিসের আসল তথ্য না বলে তারা শুধু কেচ্ছা, কাহিনী এবং টাকা কামানোর কেচ্ছা কাহিনি শুরু করে। শুধু গলাবাজি অর্থাৎ গলার কন্ঠ দিয়ে তারা টাকার কামানোর জন্য ব্যস্ত। সুন্দর কন্ঠের ওয়াজ শুনলে জান্নাতে যাওয়া যাবেনা। প্রতি টি সবচেয়ে জরুরী কাজ হলো সুন্দর আমল, নেক আমল। সুন্দর কন্ঠ নয়, সুন্দর আমল হওয়া চাই। রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন যে, ইক্রাউল কোরআনা বিলুহুনিল আরাবি, ওয়া লুহুনে বি আছওয়াতিহা, অর্থাৎ তোমরা আল কোরআন কে পাঠ করো আরবী লেহনে বা কন্ঠে। দুঃখের বিষয় বাংলাদেশের কিছু কিছু ওয়াজ মাহফিলে এখন বাদ্য যন্ত্র মিউজিক ছাড়া ই গুটিকয়েক হুজুর রা গান শুরু করে। ধর্ম বিকশিত হয় তাঁর হিদায়তের আলোর গুণে। হযরত শাহজালাল যখন ইয়েমেন থেকে বাংলাদেশে যান, তখন হযরত শাহজালালের ভাষা ছিলো আরবী এবং বাংলাদেশের মানুষের ভাষা ছিলো বাংলা। হযরত শাহজালাল রহ, মাইকে কোন ওয়াজ মাহফিল ও করেন নাই এবং হৈ হুল্লোড় চিল্লা চিল্লি ও করেন নাই। হযরত শাহজালাল রহ, এর আধ্যাত্মিক আলোর পরশ দেখে দলে দলে লোকজন ইসলাম ধর্ম কবুল করে মুসলমান হয়ে যান। রাসূলে পাক (সাঃ) বলেন, মাই ইউরিদুল্লাবিহি খাইরাই ইয়ুফাক্কিহহু ফিদ দ্বীন, অর্থাৎ আল্লাহ পাক যাঁকে ইচ্ছা করেন, তাঁকে ফিকাহ ফিদ দ্বীন দান করেন। বাংলাদেশে প্রতিদিন ই ওয়াজ মাহফিল হচ্ছে কিন্তু এই বয়ান গুলি শোনে কয়জন মানুষ হিদায়তের পথে আসলো। বরং উল্টো দিন দিন সমাজে অশান্তি, হানাহানি, অশ্লীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারা ওয়াজ শ্রবণ করে তারা বাড়ীতে গিয়ে বলে বাহ আজ এত সুন্দর ওয়াজ শুনছি, হুজুরের কন্ঠ যে সুন্দর, এরপর দেখা যায় সে আর ভুলে ও নামাজ পড়ে না। কিছু কিছু ওয়াইজ বক্তরা ডায়াচে উঠে ঠিক না বেঠিক? বলে চিল্লা চিল্লি শুরু করে ইউটিউব ভিডিও করে সে হয়ে বিশ্ব কাপানো বক্তা। আরে সে তো বাংলাদেশে থেকে হয়ে যায় বিশ্ব বরেণ্য মুফছ্ছির, বিষয় টা আসলে আমার বুঝে আসেনা। ওয়াজ মাহফিলে বক্তারা লাফালাফি, চিল্লা চিল্লি শুরু করে দেয়, সেটা আবার কি? দাওয়াতে তাবলীগ বিশ্ব ইজতিমা লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল হয়। সেখানে কোন বক্তার কি চিল্লা চিল্লি শুনছেন? নিশ্চয়ই না। সেখানে বয়ান হয় তাওহিদ, রিছালত এবং আখিরাত সম্পর্কে। মুসল্লী রা বয়ান শুনে তাদের অন্তর বিগলিত হয়ে তাঁরা আল্লাহর দেওয়া জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর জন্য নবীওয়ালা মেহনত দাওয়াতে তাবলীগে কেউ বা বছর চিল্লা কেউ বা তিন চিল্লা সময় লাগান। মাহফিল হোক সেটা চাই, কিন্তু কিছু কিছু মৌলভী রা তারা এত ব্যস্ত যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য তাদের হাতে সময় নেই, তাই তারা হেলিকপ্টারে চড়ে যেতে হয়। সাড়ে তিন ইন্চি পেঠের জন্য বাংলাদেশের কিছু কিছু অন্ধ মুল্লারা তাদের নিজের সাড়ে তিন হাত কবরের অনিষ্ট করছে। পুরো পুরো ইলমে ফিকাহ, ইলমে উছুলে ফিকাহ না জেনে তারা হয়ে যায় মুফতী। আল্লামা শব্দের পারিভাষিক অর্থ না জেনে তারা হয়ে যায় আল্লামা যত্রতত্র আল্লামা শব্দের অপব্যবহার। আল্লামা শব্দের পারিভাষিক অর্থ হলো আল আল্লামাতু হুয়া মাহির ফি কুল্লিল ফুনুনাত। অর্থাৎ প্রতি টা ফন, বিষয় বা সাবজেক্ট এর উপর গভীর নলেজ যিনি রাখেন তিনি হলেন আল্লামা। তাহলে জেনে নিন মহা পবিত্র আল কোরআনের আলোকে, ওয়াজ মাহফিল করে হেলিকপ্টার এবং বিনিময় গ্রহণ জায়িজ কিনা? এক, আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাইনা, আমার যাহা পাবার তাহা একমাত্র মহান আল্লাহর নিকট থেকেই পাবো। সুরায়ে শুআরা, আয়াত ১০৯। দুই, বলে দিন আমি তোমাদের নিকট এ জন্য কোন পারিশ্রমিক বা হাদিয়া চাইনা। ইহা সারা দুনিয়ার (ইহা আল কোরআন সারা দুনিয়ার মানবজাতির জন্য উপদেশ মাত্র) জন্য উপদেশ মাত্র। সুরায়ে আনয়াম, আয়াত ৯০। তিন, বলুন আমি তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাইনা। যার ইচ্ছা সে তাঁর রবের পথ অবলম্বন করবে। সুরায়ে ফুরকান, আয়াত ৫৭। চার, নবীদের কে অনুসরণ করো। অনুসরণ করো তাদের কে যারা তোমাদের নিকট কোন বিনিময় বা প্রতিদান চান নাই। সুরায়ে ইয়াছিন, আয়াত ২০, ২১। পাঁচ, হে কাওম হে গোত্র আমি (তোমাদের নিকট ওয়াজ মাহফিলের বিনিময়ে হাদিয়া) বা বিনিময় চাই নাই। আমার হাদিয়া বা বিনিময় আমাকে আমার আল্লাহ ই দিবেন। সুরায়ে হুদ, আয়াত ৫১। ইদানিং করোনা ভাইরাস কালীন সময়ে কিছু কিছু মৌলভী দের ওয়াজ মাহফিল বন্ধের কারণে তাদের হালুয়া রুটির ধান্দা বাজির কোন রাস্তা নেই বলেই তারা মানুষ কে তাওবার কথা না বলে শুধু কেমনে টাকা রুজি করা যায় সে ধান্দা তে মত্ত হয়ে উঠেছে, কিছু কিছু ধর্ম বাবসায়ী কাঠমুল্লারা। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাই কে নবী ওয়ালা কাজ দাওয়াতে ইসলাম কে সহীহ শুদ্ধ ভাবে বিনা হাদিয়া বিনা পারিশ্রামিকে গোটা উম্মাহের নিকট পৌছে দেয়ার তাওফিক দান করুক। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলের সহায়।

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

সম্পাদক : মোঃ ইয়াসিন টিপু

নাহার প্লাজা , ঢাকা-১২১৬

+৮৮ ০১৮১৩১৯৮৮৮২ , +৮৮ ০১৬১৩১৯৮৮৮২

shwapnonews@gmail.com

পরিচালনা সম্পাদক : মিহিরমিজি

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সপ্ন নিউজ
Powered By U6HOST