এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, পিছিয়ে নেই নারীরাও
স্বপ্ন নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১২, ২০২০, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পিছিয়ে নেই নারীরাও। বর্তমান সরকারের আমলে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বেশ জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছেন নারীরা।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ নারী ও শিশু। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে। এ লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা বেশ প্রশংসাযোগ্য।
সূত্র জানায়, নারী ও শিশুর সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং সামগ্রিক উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১; জাতীয় শিশু নীতি ২০১১; শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সমন্বিত নীতি ২০১৩; মনোসামাজিক কাউন্সেলিং নীতিমালা ২০১৬ (খসড়া); জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নকল্পে কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০১৫; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০; ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪; পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩ এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭। – বাসস
সূত্র মতে, দুস্থ নারীদের জন্য রয়েছে সরকারের নিরাপত্তামূলক কিছু প্রকল্প। যাকে বলা হয়, ভিজিডি কার্যক্রম। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত ভিজিডি কর্মসূচির মাধ্যমে দু’বছর মেয়াদি চক্রে উপকারভোগী নারীদের মাসিক ৩০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি চুক্তিবদ্ধ এনজিও-র মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন প্যাকেজ সেবা দেয়া হয়।
গত ১১ বছরে ভিজিডি সুবিধাভোগী নারীর সংখ্যা ৪০ লাখের বেশি। এছাড়া, দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে তাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে এবং শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
এ কার্যক্রমের আওতায় দরিদ্র গর্ভবতী মায়েদের ভাতা প্রদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। এ কার্যক্রমের আওতায় ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি।
মহিলা বিষয়ক অধিদফতর জানায়, শহর অঞ্চলে নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মা ও তাদের শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টিমান বৃদ্ধি করে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার ‘কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল’ কর্মসূচি চালু করেছে। এ পর্যন্ত ২ লাখ ৪৫ হাজার ১২৫ জন কর্মজীবী মাকে সেবা দেয়া হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৮০ হাজার মাকে এই ভাতা প্রদান করা হয়।
বেকার নারীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ:
শিক্ষিত বেকার মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষিত বেকার নারীদের কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ৪ হাজার ৩৯৩ জন শিক্ষিত বেকার নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
এ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৮৮২ জন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৬ হাজার ৬৩৫ জন এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার:
নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালের ১৯ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই সেন্টারে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯ নম্বরে ফোন করে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু, তাদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শসহ দেশে বিরাজমান সেবা এবং সহায়তা সম্পর্কে জানতে পারে। এ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে টোল-ফ্রি (১০৯) সেন্টারে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৩টি ফ্রি ফোন গ্রহণ করা হয়।
কিশোর-কিশোরী ক্লাব:
কিশোর-কিশোরীদের ক্লাবে সংগঠিত করে তাদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য ২০১১ সাল থেকে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে দেশের ৭টি বিভাগের ৭টি জেলার প্রত্যেক উপজেলায় সকল ইউনিয়নে সর্বমোট ৩৭৯টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলাগুলো হলো- গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও, ঝালকাঠি, রাঙ্গামাটি, মৌলভীবাজার ও সিরাজগঞ্জ।
মৌলভীবাজারের জেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের উপপরিচালক ভিকারুন নেছা বলেন, এসব ক্লাবে কিশোর-কিশোরীরা মিলিত হয়ে বাল্য বিবাহ, যৌতুক, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা করে। এই ক্লাবগুলোর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শন শিখানো হয়।
নারী পোশাককর্মীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ:
কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তা ও আবাসন নিশ্চিত করার জন্য মহিলা হোস্টেল পরিচালনা করছে সরকার। ২০১৩ সালে সাভারের বড় আশুলিয়ায় ৪২ শতাংশ জমির উপর কর্মরত নারী পোশাক শ্রমিকদের জন্য ১২ তলা হোস্টেল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করেছে। সরকার নারীর উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্যতা হ্রাসের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার ব্যাপক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে নারী দারিদ্র্যতা হ্রাস করতে পেরেছে। যার ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ অর্জনে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেও মনে করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন বড় বোন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।

ঢাকা অফিস

সম্পাদক : মোঃ ইয়াসিন টিপু

নাহার প্লাজা , ঢাকা-১২১৬

+৮৮ ০১৮১৩১৯৮৮৮২ , +৮৮ ০১৬১৩১৯৮৮৮২

shwapnonews@gmail.com

পরিচালনা সম্পাদক : মিহিরমিজি

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সপ্ন নিউজ
Powered By U6HOST